রাবি শিক্ষার্থীর মুক্তিযোদ্ধা পিতাকে চুরির অভিযোগে নির্যাতন


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০৭ AM, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গরু চুরির অভিযোগ তুলে আকবর আলী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতনের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের পিতা। গত শুক্রবার (৬ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি  ইউনিয়নের  জাওরানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাদী হয়ে চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী।

নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাবিবুর রহমান ঘটনা সম্পর্কে বলেন,  আমাদের বাড়ীর পাশে একটি বাড়ীতে  গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ভাইকে গরু চুরির অভিযোগ তুলে বাড়ীতে চৌকিদার পাঠান চেয়ারম্যান।  তারপর বাড়ীতে খোঁজ নিয়ে তার ছোট ভাইকে খুঁজে না পেয়ে। চেয়ারম্যান নিজে তাদের বাড়ীতে এসে তার আব্বাকে বাড়ি থেকে চৌকিদার ও চেয়ারম্যান উঠিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে চেয়ারের সঙ্গে দড়ি দিয়ে দেড় ঘন্টা বেঁধে রাখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সমালোচনার মুখে পড়েন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন। সেসময় আব্বার বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান সাথে পূর্বশত্রুতা জেরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ভুক্তভোগীর ছেলে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে ঘটনার বর্ণনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, আমার নির্দোষ ছেলেকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ীতে চৌকিদার পাঠান চেয়ারম্যান। ছেলেকে না পেয়ে আমাকেই জাহাঙ্গীর নামে এক চৌকিদার জোর করে তুলে নিয়ে রুমে বেঁধে রাখা হয়।  আমার ছেলে এরকম কাজ করেনি তবুও আমাদের ওপর এরকম অভিযোগ করে তুলে নিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন চেয়ারম্যান। আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এর বিচার চাই।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম তুষার বলেন, সারাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চলছে। এ ধরনের ঘটনা সত্যিই কষ্টদায়ক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়। আমরা এ বিষয়টা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথে কথা বলেছি এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পক্ষ থেকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে যদি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয় এবং চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। না হলে আমরা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে  মুক্তিযোদ্ধাকে কোন মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন। তার ছেলে গরু চোর সেজন্য তাকে ডাকা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 এ ঘটনায় উপজেলার নির্বাহী অফিসার সামিউল আলিম বলেন, এ ঘটনার একটি মামলা হয়েছে।আমরা সুষ্ঠ তদন্ত করছি। আর ইতিমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ওসির সাথে আলোচনা বসেছিলাম। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

নির্যাতনের বিষয়ে, হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, রোবার সকালে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :