শখ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুঁনছেন লিয়া

মুহিব্বুল্লাহ,খুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৫ AM, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

মানুষ তাঁর স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, স্বপ্নের মাঝে কিছুটা পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস ব্যক্তিকে লক্ষ্য পৌঁছে দেয়। তেমনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর শখ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্পটা জানাচ্ছেন মুহিব্বুল্লাহ

ফারহানা লিয়া পড়াশোনা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিন বিভাগে।পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতা হওয়ার জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার ছোট্ট স্বপ্নকে বাস্তব করার পথে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ড্রয়িং ও ক্রাফটিং এর শখ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুঁনেছেন লিয়া। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান কে অত্যধিক পছন্দ করার কারণে ব্রান্ডের নাম দিয়েছেন ‘Creation 75’। হ্যান্ডমেইড বিভিন্ন অলংকার নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্পটা জানতে চাইলে
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে ড্রয়িং আর ক্রাফ্টিং এর শখ ছিলো। কখনো অফিসিয়ালি আঁকা শিখিনি,ইচ্ছে ছিল যদিও। প্রতি ঈদে বান্ধবীদের ঈদ কার্ড গিফট দিতাম নিজে হাতে বানিয়ে। ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে স্কিল একটু বাড়লো। কলেজ লাইফে এসে ইউটিউবের সাথে পরিচয়। সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি, শিখছি। এডমিশন কোচিং এর সময় ২ জন শিক্ষক কে আমি ঈদে কার্ড দিয়েছিলাম, স্যারেরা বেশ প্রশংসা করে বলেছিলেন হাতের কাজ দিয়েই তো আমি নতুন কিছু শুরু করতে পারি। তখন থেকেই মাথায় গেঁথে যায় কথাগুলো, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আসে যে হয়তো আমার কাজ একটু হলেও ভালো নাহলে এমনটা তাঁরা বলতেন না।এরপরে ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া,ভর্তি, পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই।
কিন্তু করোনার জন্য আমরা সবাই লকডাউনে আটকে গেলাম। খুবই বোরিং সময় কাটছিলো। ক্রাফটিং,ড্রয়িং, হ্যান্ডপেইন্টিং যেমন বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবী, সুন্দর সুন্দর ড্রেস ইত্যাদি করেই সময় কাটাতাম।তারপর ভাবলাম করছিই যখন এসব তাহলে একটা পেজ খুলেই ফেলি। অনেকবার চেষ্টা করেও পুঁজি আর সাপোর্ট এর অভাবে পিছিয়ে যাই।
মেয়ে হওয়ার কারণে সমাজ বাস্তবতায় কিছুটা হীনমন্যতা কাজ করতো তার মধ্যে, “যদি আমি না আবার পরিবারের বোঝা হয়ে যাই।” পড়াশোনা শেষ করতে এখনো অনেক সময়, ১ বছরের বেশি সময় নষ্ট হলো, চাকরি পেতে অনেকটা সময় দরকার হবে। অন্তত নিজের হাতখরচ টা চালাতে হলেও কিছু একটা করা দরকার। এদিকে আবার গ্রামে টিউশন পাওয়াও মুশকিল। এমন ভাবনা থেকেই হঠাৎ করে তার কাছে থাকা ১৩০০ টাকা এবং তার মায়ের কাছে থেকে কিছু টাকা নিয়ে এই স্বল্প পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
খুব কম সময়ের এ পথচলায়ও তিনি অনেকটা আশাবাদী। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ নতুন হিসেবে আমি যে সাড়া পাচ্ছি তাতে অনেক খুশি। এতো দ্রুত পেজ এর ফলোয়ার ৩৫০+ হবে গ্রুপ মেম্বার ২৫০+ হবে সেটা ভাবিনি আমি। পরিচিতি যতটুকু হয়েছে মাশাআল্লাহ। টুকটাক করে বেশ ভালোই অর্ডার আসতেছে, প্রোডাক্ট সবার পছন্দ হচ্ছে এটাই বড় প্রাপ্তি।
পরিবার বা কাছের মানুষের থেকে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার পরিবার চায় আমি পড়াশোনাটাকেই বেশি গুরুত্ব দেই, অবশ্যই সেটা আমারও ইচ্ছে। আম্মু বেশ সাপোর্টিভ কিন্তু বাবা চান আমি যেন পড়াশোনায় পুরো মনোযোগ দেই। কিন্তু আমার কয়েকজন বন্ধু আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে যা অতুলনীয়।
উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে লিয়া বলেন, আমরা এমন একটা সমাজে থাকি যেখানে এখনো মেয়েরা কিছু করতে গেলে বাঁধার সম্মুখীন হয়। কেউ কম কেউ বেশি। সবার আগে বাঁধাটা আসে পরিবার থেকেই, পরিবার সাপোর্টিভ হলে বাইরের বাঁধা অতিক্রম করতে বেশি সমস্যা হয়না। যেহেতু বিজনেস টা অনলাইন বেসড এজন্য অনেকটা সময় আমাকে অনলাইনে সময় দিতে হয় যেটা পরিবারের কারোই পছন্দ না সেভাবে। একটু প্রতিবন্ধকতা থেকেই যায়। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। আগের থেকে বাঁধা অনেকটাই কম। উদ্যোক্তা কিন্তু মেয়েরাই বেশি হচ্ছে এখন। মেয়েরা এসব জয় করতে শিখে গেছে তাই সামনে প্রতিবন্ধকতা আসলেও সেটাকে প্রতিবন্ধকতা মনে হচ্ছেনা।

আপনার মতামত লিখুন :