শিক্ষার্থীকে হুমকিস্বরূপ ধর্ষণের অভিযোগ জবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৪ PM, ১১ অক্টোবর ২০২১

মেসে আটকে রেখে মারধর ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

অভিযোগেপত্রে অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রায় চার মাস ধরে বিভিন্নভাবে তাকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি চড় থাপ্পড়সহ তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ছাত্রলীগের নেতা দিয়ে তাকে ধর্ষণ ও গুম করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আটকিয়ে রেখে তার ভিডিও ধারণা করা হয়েছে বলেও জানান ।

অর্থনীতি বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য ফৌজিয়া আফরিন প্রিয়ন্তীর বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী, একইসাথে ছাত্রলীগ কর্মী মিথুন বারই এর বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন , আমাকে মেসের তুচ্ছ ঘটনায় চড় মারে প্রিয়ন্তি আপু। পরে আমাকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের সিট সে বাকি মেয়েদের দিবে বলেও জানায়। মেসে মারধরের ঘটনার পরের দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে আমি ভয়ে মাফ চাইলেও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এছাড়া উনার সাথে থাকা মিথুন বারই আমাকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় এ অভিযোগ করেছি।

অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ দেয়ার পর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের সামনে মিথুন বারই আমাকে আবার ধর্ষণের হুমকি দেয়।

এদিকে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে ফৌজিয়া আফরিন প্রিয়ন্তী বলেন, অভিযোগকারী রাতে পাঁচ-ছয়জন পুরুষ এনে আমাকেসহ সবাইকে অকথ্য ভাষায় থ্রেট দেয়। রাতে মেয়েদের পোশাক কেমন থাকে সবাই জানে। এটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর। তিনি আরও বলেন, মেয়েটির পক্ষে মেসের কোনো সদস্য নেই। তার বিরুদ্ধে পুরাতন মেস ব্যবসার অভিযোগ আছে।

আরেক অভিযুক্ত মিথুন বারই বলেন, আমি কাউকে কোনো হুমকি দেই নাই। আমাকে এর মধ্যে কেন টানল বুঝতে পারছি না। তবে শুনেছি মেয়েটি একজন মেস ব্যবসায়ী। ধর্ষণের হুমকির কথা অস্বীকার করে মিথুন বারই বলেন, মেয়েটি বাইরের একটা ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে আমাকে হুমকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমি একপক্ষের (প্রিয়ন্তী) অভিযোগ পেয়েছি। তবে ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরের। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন, আমি এক পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীসহ অর্থনীতি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাথে প্রক্টর স্যারসহ বসে আগামীকাল এটি সমাধানের চেষ্টা করব।

আপনার মতামত লিখুন :