শিক্ষার্থীদের দায়-দায়িত্ব নিতে অক্ষম জবি ছাত্র কল্যাণ পরিচালক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৫ PM, ০৬ অগাস্ট ২০২১

করোনাকালীন এ সময়ে বাসায় অবস্থান করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালেয়ের (জবি) অধিকাংশ শিক্ষার্থী। অনেকে আবার টিউশনির জন্য ঢাকায় অবস্থান করেছেন। করোনা ভাইরাস সবজায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে এমন তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানিয়েছেন। কিন্তু আশানুরুপ কোন সাড়া না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের দেখ-ভালের দায়িত্ব ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতজন শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত কিংবা আক্রান্তদেরও কোন সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না সেটিও জানেন না তিনি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। বারবার দায়িত্ব পরিচালনায় অক্ষমতা প্রকাশ করলেও পরিচালক পদে বসে আছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড মো আব্দুল্লাহ আল বাকী’র সাথে সাংবাদিক পরিচয়ে এসব তথ্য জানতে চাইল উল্টো তিনি সাংবাদিককে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এর উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাছে তথ্য নাই। করোনা আক্রন্ত কতজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও আমি জানি না। কোথায় এ তথ্য পাবো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও আমি জানি না। এভাবে কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি। এসব তথ্য ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের জানা থাকার কথা থাকলেও সকল প্রশ্নে তিনি না বোধক উত্তর দেন, যা এক পর্যায়ে হাস্যরসে পরিণত হয়।

এটা জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জবির ছাত্র কল্যাণ পরিচালক নামেই আছে, কোন কাজের না। কোন ধরনের ছাত্র কল্যাণ মূলক কাজে সম্পৃক্ত নয় জবির ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের দপ্তর। গণিত বিভাগের শিক্ষাথী হাফিজুল ইসলাম জানান, আর্থিক সঙ্কট নিয়ে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কাছে গেলেও এটা করো ওটা করো বলে সময় ক্ষেপন করেন কিন্তু কোন ধরনের সহায়তা করেন নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল বাকীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্য মূলক ব্যবহার, ফোন কেড়ে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ‘সকল সংবাদিক বেয়াদব’ মন্তব্য করে বিতর্কিত হন।

তার বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ক্লাসেও ঠিক মতো আসতেন না সব সময় শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের হেনস্তা করতেন। একটা কিছু হলেই অভিভাবককে ফোন দিয়ে নানা কথা বলতেন।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনিষ্টিটিউট এর করোনায় আক্রান্ত হওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো ধরণের সহযোগিতা করেনি। এমনকি আমার কোনো খোঁজ-খবরও নেননি আর।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জবির একজন সিনিয়র অধ্যাপক বলেন, আমাদের ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সারা বছর কোন কাজ নেই। এমন একজন অযোগ্য লোককে এমন একটি সেনসিটিভ জায়গায় দায়িত্ব দেয়ার কারণ কী আমার বুঝে আসে না।

পরবর্তীতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো আব্দুল্লাহ আল বাকী-কে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

করোনা আক্রান্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, এটা নিয়ে ছাত্র কল্যাণ কাজ করতেছে। তিনি ভিসি স্যার, রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে কথা বলে যেখানে চিঠি দেয়া লাগে, যোগাযোগ করা লাগে করতেছেন। করোনায় আক্রান্ত আমাদের ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমনে নেই। আগে ছিলো ২-৩ দিন তখন আমরা সহযোগিতা করেছি। আমাদের ছাত্ররা অনেক সচেতন, তারা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। এজন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আক্রান্তের সংখ্যা কম। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জবির ভিসি অধ্যাপক ড. মো ইমদাদুল হক বলেন, প্রশাসনের কেউ সাংবাদিকের সাথে এমন আচরণ করবে কেন? আমি তো এসব জানি না। আমি উনার সাথে কথা বলব। এর আগেও উনার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমি জানি না। আমি সব বিষয়ে কথা বলব।

আপনার মতামত লিখুন :