ঢাকা, শুক্রবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলা
  5. জবস
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তের জন্য দায়ী কে?

প্রতিবেদক
হাছিবুল ইসলাম সবুজ, কুবি
জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৬:২৬ অপরাহ্ণ

‘মাদক’ এক অভিশাপের নাম। এক সর্বনাশা ছোবলের নাম। এটি এমন এক সামাজিক ব্যাধি যা অপরাধের জন্ম দেয়নি বরং এর বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। উচ্চতর ডিগ্রী এবং নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নিয়ে বহু বাঁধা বিপত্তির পাড়ি জমিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিটে ভর্তি হন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানার্জন ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার উদ্যান বলা হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা মননশীল হয়ে জ্ঞান বিস্তারে নিজেদেরকে মগ্ন রাখবে সেখানে জ্ঞান চর্চার পরিবর্তে চর্চা হচ্ছে মাদকের। এ অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যৎময়ী মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর বিলীন হয়ে যাচ্ছে নিজেদের স্বপ্নগুলো। মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে কতশত স্বপ্ন, কতশত রঙিন জীবন ধুলিকণার মতো ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে।

এক পরিসংখ্যানে জানা যায় দেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৮১১। যা মোট জনসংখ্যার ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। তাহলে প্রশ্ন জাগে এর শেষ কোথায়?

বুয়েট, জাবি, ঢাবি, রাবি, শাবিপ্রবি ও ইবির মতো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদকের বিষবৃক্ষের কালো ছায়ার ছাপ পড়েছে । মাদকের ক্রেতা হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী হওয়ায় প্রশাসনের সন্দেহের তালিকায় পরছে না তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে সহজেই মিলছে নানা রকমের মাদকদ্রব্য । যেমন: গাঁজা, ইয়াবা, হিরোইনসহ দেশি-বিদেশি নেশাজাতীয় পানীয়। গভীর রাতে এর আসর জমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অলিগলিতে। বিশেষ করে কেন্দ্রিয় মাঠ, হলের ছাঁদে, নির্জন ঝোপঝাড়ে মাদক সেবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মাদকসেবীরা। রাত যত গভীর হয়, মাদকের আকাঙ্ক্ষা ততই বাড়তে থাকে তাদের মধ্যে এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে সমাজ, রাষ্ট এমনকি তাদের নিজেদেরও ভবিষ্যৎ আর ঝুঁকছে মৃত্যুর দিকে।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মনে করে ধূমপান বা মাদক গ্রহণ করা এক ধরনের প্রকৃত স্মার্টনেস। এই চিন্তাধারা থেকেও অনেকে মাদকে পা বাড়ায়। কেউ আবার হতাশা, প্রেমে ব্যর্থতা,পারিবারিক কোলাহল, কৌতূহল, সুলভে মাদকদ্রব্য প্রাপ্তি, বিলাসবহুল জীবন-যাপন, কেউ বা রাজনৈতিক বড় ভাইদের সান্নিধ্যে লাভ করার জন্য সঙ্গ দেয় মাদকের মতো মরণব্যাধি বিষে।

এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাদক বন্ধে নেই কোনো কঠোর পদক্ষেপ ও জোরালো ব্যবস্থা। বেশি ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নীরব ভূমিকায় থাকতে দেখা যায়। প্রশাসন ও সেই ভাবে তল্লাশি চালায় না যার ফলে মাদক সেবন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষার্থীরাও মাদকসেবনে আসক্ত হয়। এমন অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তের দায় কার?

একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পূর্বে পারিবারিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই সুযোগটা কমে আসে। এখানে তারা প্রত্যেকেই স্বাধীন যা অবাধ স্বাধীনতার কারণে অনেক সময় খারাপ বড়ভাই ও বন্ধুদের সাথে মিশে মাদকাসক্তের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যথাযথ অনুশাসনের অভাবেও শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্তে আসক্ত হয়। অনেক সময় তাদেরকে চিহ্নিত করার পর ও প্রতিবাদ কিংবা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের ও যথাযত মনিটরিং এর অভাব রয়েছে। এছাড়াও অতিরঞ্জিত স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সংকটের হতাশা, মাদকের সেবনের অজ্ঞতা ও ম্যাচুউরিটির অভাবসহ ইত্যাদি বিষয়গুলো দায়ী।
এই তরুণ প্রজন্মকে মরিচীকা থেকে ফেরাতে না পারলে হারিয়ে যাবে আগামী দিনের মেধাবী ভবিষ্যত আর তৈরি হবে মানব সম্পদের শূন্যতা। তাই প্রয়োজন যথাযথ কার্যকরি পদক্ষেপ ও সঠিক তদারকি।
গড়ে তুলতে হবে মাদক পরামর্শ সহায়তা, গোলটেবিল, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাদকবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি আয়োজন করতে হবে বিভিন্নরকম কর্মশালা। রেডিও ও টেলিভিশনে বেশি বেশি মাদকের কুপল এবং সচেতার বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকসেবিদের যথাযথ শাস্তির বিধান চালু করা এবং মাদকাসক্তদের সুস্থ ও সুন্দর জীবন ফেরাতে প্রয়োজনানুসারে মাদক নিরাময় সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও পরিবারের অভিবাকদের উচিত তাদের সন্তানরা কাদের সাথে মিশছেন, কি করছেন নিয়মিত খোজ- খবর রাখা এবং নেতিবাচক আচরনের বহিঃপ্রকাশ ঘটলে সঠিক নির্দেশনার পাশাপাশি বন্ধুসুলভ আচরণ করা। নিজেদের সন্তানদের সময় দেওয়া যার ফলে পারিবারিক বন্ধন বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালনার সুযোগ হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস