সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো রাবি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫৯ PM, ০৬ জুলাই ২০২১

প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের ৬৮ বছর পেড়িয়ে ৬৯ বছরে পা রাখলো দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠ। দিনটি উপলক্ষে লাল, নীল, সবুজসহ নানা রঙের বর্ণিল সাজে সেজেছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থাপনা।
দিনটিকে ঘিরে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারীর করোনা কারণে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে সীমিত পরিসরে পালন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজনগুলো।
করোনা বাস্তবতা বিবেচনায় সরাসরি কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাই অনলাইনে কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে।
আজ ৬জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনভবন চত্বরে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের প্রথম কর্মসূচী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়কের প্রতিনিধি হিসেবে নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. একরাম হোসেন নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানো হয়।
এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. আবদুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো.লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা আইবিএ চত্বরের আমবাগানে একটি  আম গাছের চারা রোপণ করেন।
এদিকে বেলা ১১টায় অনলাইনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা।
রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোঃ আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী এম জাকারিয়া।
প্রসঙ্গত,ব্রিটিশ আমলে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষা উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী কলেজ। কিন্ত এর কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায় এসব কার্যক্রম। সে সময়েই রাজশাহীতে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ভাষা আন্দোলনের কিছুদিন আগে থেকেই মূলত রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাসের দাবি তোলে। ক্রমেই তা তীব্র হতে থাকে। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা ৷ পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়। যাতে সদস্যদের মধ্যে মরহুম আবুল কালাম চৌধুরী ও আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য৷
এভাবে একের পর এক আন্দালনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়। এই আন্দোলনে একাত্ব হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ৷
১৯৫৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভুবন মোহন পার্কে আরও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদার বখশ সরকারকে হুঁশিয়ার দিয়ে বলেন, ‘যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না হয় তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ দাবি করতে আমরা বাধ্য হব।’
মাদার বখশের এই বক্তব্যে সাড়া পড়ে দেশের সুধী মহলে এবং সাথে সাথে টনক নড়ে সরকারেরও। অবশেষে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইন সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাস হয়। নতুন উপাচার্য প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেইরীকে সঙ্গে নিয়ে মাদার বখশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এ দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করে মোট ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এম এ খুরশীদ৷ একই বছর ৬ জুলাই প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেইরীকে উপাচার্য নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

আপনার মতামত লিখুন :